||আমার গল্প লেখার সর্বপ্রথম প্রচেষ্টা||

একটি অনুগল্প, আমার প্রথম প্রচেষ্টা, কমেন্টের অপেক্ষা য় থাকলাম 🙏

।।অশরীরী-সশরীরী।। 

ল্যাপটপে কাজ করতে করতে হঠাৎ লোডশেডিং। "ধুর্, একটু বসি, এখুনি চলে আসবে"। আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে করে কিছুক্ষণ কাটল, কিন্তু কারেন্ট এলোনা, এখানে এরকম হয়না সাধারণত। 
হঠাৎ, ক্যাঁচচচচ করে একটা অদ্ভুত শব্দ, মনে হল, বেডরুমের দরজা কেউ খুলল। কিন্তু কে? বাড়ীতে তো কেউ নেই তাছাড়া ঝড়ের ও তো চিহ্নমাত্র নেই। তাহলে? নাহ্ এবারে উঠতেই হবে। কোন রকমে হাতড়ে দেশলাইটা পাওয়া গেল। জ্বালিয়ে দেশলাই কাঠিটা ওপরে তুলতেই, বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল, বিভৎস মুখটা এগিয়ে আসছে তার দিকে। 

"মাগো", বলে চমকে চেঁচিয়ে উঠলো অনু। দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে করতে একটু ফ্রেশ হবার জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিনেমা টা চালিয়েছিল। এমনিতে সে খুবই সাহসী। বাড়ি থেকে এত দূরে চাকরি সূত্রে থাকতে হয়, এমনকি লকডাউনেও সে বাড়ি যেতে পারে নি,একাই আছে। সুতরাং ভূতের ভয়ে সে বিশেষ কাবু হয়না। কিন্তু আজ যেন সে একটু বেশিই ভয় পেয়েছে, গা টা বেশ ছমছম করছে। যাইহোক, মনের ভুল ভেবে পাত্তা দিল না, ল্যাপটপ অন করে আবার কাজে মন দিল। 
হঠাৎ লোডশেডিং। লকডাউন শুরু হবার পর লোডশেডিং এর প্রকোপ কমেছে এই শহরে, প্রায় হয়না বললেই চলে। মটকা গরম হলেও আজ একটু ভয় ই পেয়েছে অনু, কারণ টা যদিও বা অজানা। ভাবল ইউটিউব টা না খুললেই হত।  যাইহোক সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে দেশলাই টা হাতড়ে খুজে পেল ঠিক ই কিন্তু জ্বালাতে যাবার আগে সেই শব্দ - ক্যাঁচচচচ। ভেতরের হাতুড়ি পেটানো টা আর ও বেড়ে গেল। এক জায়গায় চোখ বন্ধ করে, নি:শ্বাস চেপে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে রইল সে, কিছুতেই চোখ খুলবে না, আলো জ্বালবেনা। মনে মনে যত দেব দেবতা আছে সবাই কে স্মরণ করতে শুরু করল সে। এক পা, দু পা করে শোবার ঘরের দিকে এগোতে লাগল, কারণ শব্দটা ওদিক থেকেই আসছে। হঠাৎ তার পা আটকে গেল কিছুর একটার সাথে ধাক্কায়। শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল অনুর। আর এগোতে পারলো না সে। হাত পা অবশ্ হয়ে যাচ্ছে আতঙ্কে।এরপর অদ্ভুত ভাবে সে একটা জলীয় স্পর্শ অনুভব করল পায়ে, পরপর দুতিন বার। ঠিক জিভ দিয়ে চাটলে যেমন হয়। এতক্ষণে সম্বিত ফিরল অনুর। আরে এতো স্মাইলি রাণী, লকডাউনের তার একমাত্র সঙ্গী একটা ছোট্ট কুকুর ছানা, যাকে সে পেয়েছিল লকডাউন শুরু হবার পর পর আবর্জনা ফেলতে গিয়ে। অফিসের কনফারেন্স কল চলছিল বলে পাশের রুমে রেখে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে এসে ছিল। আলো, পাখা চলে যেতে বেচারা ভয়ে ভয়ে চলে এসেছে। নিজের নির্বুদ্ধিতায় হাসতে হাসতে সে স্মাইলি রাণী কে কোলে তুলে নিল আর ততক্ষণে কারেন্ট ও চলে এসেছে। স্মাইলি কে আদর করতে করতে একটা মিষ্টি সেলফি তুলে হোয়াটসঅ্যাপ এ স্টেটাস দিল অনু-
"ভূত আমার পুত্-
পেত্নী আমার ঝি! 
'স্মাইলি' যখন সাথে আছে-
ভয়টা আমার কি? "


©গার্গী ত্রিপাঠী

Comments

Popular posts from this blog

Egypt in 5 Days: A Dream Journey Through History, Pyramids, and the Nile

||আমার দিদা||

||I Miss My Office During The Pandemic||